দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয় বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার দুই বাসিন্দা রয়েছেন। তারা হলেন সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার মো. আলিমুজ্জামান সাজু এবং কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার। তাদের মৃত্যুর খবরে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলের চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগুনের শিখা বাইরে থেকে সরাসরি দেখা না গেলেও দ্রুত পুরো হোটেল ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। হোটেলটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু হওয়ায় অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
পরে হোটেল থেকে অন্তত ৬০ জনকে আশঙ্কাজনক ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক নয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা চিকিৎসকদের।
নিহত আলিমুজ্জামান সাজু কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মো. ইউনুস আলী সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীর খালাতো ভাই।
সাজুর খালাতো ভাই তাহমিদ শাহেদ চয়ন জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন সাজু। চিকিৎসা শেষে কলকাতায় ফিরে ওই হোটেলে ওঠেন। সেখানেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে নিহত রেবতী সরকার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক ভবেশ সরকারের স্ত্রী। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেশী বিক্রমজিৎ সরকার জানান, রেবতীও চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। ঘটনার সময় তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না।
প্রাথমিকভাবে হোটেলের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ফায়ার সার্ভিসের একটি ভবনের মাত্র এক ভবন পরেই হোটেলটির অবস্থান হলেও সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সাজু ও রেবতীর মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছালে তাদের নিজ নিজ এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
যে আই